• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন |

পরীমণির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পিরোজপুরে নানা গুঞ্জন

সিসি নিউজ ডেস্ক ।। রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। মাদক আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় সিংহখালীতে। এখানে নানাবাড়িতেই শৈশব কেটেছে পরীমণির।

স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা বলছেন, পরীমণি ছোটবেলা থেকেই কোমল স্বভাবের। চলছে নানা জল্পনাও। নানাবাড়ির লোকেরা বলছেন, পরীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।

সালমা বেগম ও মনিরুল ইসলাম দম্পতির একমাত্র সন্তান পরীমণি। জন্মের তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। বাবা মারা গেছেন ২০১২ সালে। বাবা–মা নাম রেখেছিলেন শামসুন্নাহার স্মৃতি। ডাকনাম স্মৃতিমনি। ঢাকায় শোবিজের ঝলমলে জগতে এসে নাম ধারণ করেন পরীমণি। স্মৃতিমনির শৈশবজুড়ে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার সিংহখালীর নানাবাড়ি। নানা শামসুল হক গাজী কোলেপিঠে বড় করেছেন তাঁকে। নানা প্রথমে তাকে ভর্তি করান পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সিংহখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ভর্তি করান ভগিরাতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি। এসএসসি পাস করে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান স্মৃতিমনি।

সিংহখালী নানাবাড়িতে এখন থাকেন পরীমণির ছোট খালা তাসীলমা বেগম ও তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন। পরীমণি সময় পেলেই ছুটে যান শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত নানাবাড়িতে। এলাকার সাধারণ মানুষদের চোখের সামনে বেড়ে ওঠা শামছুননাহার স্মৃতি যে একদিন সারা দেশে এমন আলোচনায় আসবে তা কি কেউ ভেবেছিল! তাই এ নিয়ে অনেকের চোখে বিস্ময়! পাশাপাশি চলছে নানা গুঞ্জন, কানাঘুষা।

ছোট খালা তাসলিমা বেগম বলছেন, সবকিছুই চক্রান্ত। জনপ্রিয়তার কারণে পরিকল্পনা করে পরীমণিকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে শামছুননাহার স্মৃতিকে দেখেছি, সে ওই রকম মেয়েই নয়। তার আচরণ অনেক শান্ত স্বভাবের। এমন ঘটনা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।

আরেক বাসিন্দা রেহেনা বেগম বলেন, এই এলাকার স্কুলেই পরী পড়াশোনা করেছে। কখনো এমনটা মনে হয়নি। তাঁর নানা ভগিরাতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। তিনি অনেক ভালো মানুষ। পরিবারের প্রায় সবাই শিক্ষক। ভালো পরিবারের মেয়ে পরী, সে কখনো এমনটা করতে পারে এটা মানতে পারছি না।

পরীমণির ছোট খালা তাসলিমা বেগম বলেন, হঠাৎ করে চলচ্চিত্র জগতে বেশি জনপ্রিয়তাই পরীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এর আগেও দেখেছি, বিভিন্ন সময়ে পরীকে বাধ্য করা হয়েছে। নাসির উদ্দিন নামে একজন বড় ব্যবসায়ী বিভিন্ন সময়ে ওর ক্ষতি করতে চেয়েছিল। পরীর সঙ্গে যা ঘটেছে সেটি চক্রান্ত মনে হচ্ছে। এর আগেও ওকে বাধ্য করা হয়েছিল। মেরেও ফেলতে চেয়েছিল। আমরা এই ঘটনার পেছনে যারা আছেন, তাঁদের সম্পর্কে জানতে চাই। পরী সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমরা পরীর মুক্তি চাই।

পরীমনির ছোট খালু শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে নানাই তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। আমরা কেউই চাইনি সে এই জগতে আসুক, হয়তো তার প্রতিভা ছিল। প্রতিভার কারণেই আজ তাঁর এই অবস্থা হয়েছে। নানাভাইয়ের প্রতি সে অনেক দুর্বল। যেখানে নানাভাই থাকে, সেখানে এমনটা আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসা থেকে পরীমণিকে আটক করে র‍্যাব। সেই বাসাতে নানাকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন পরীমণি। আটকের সময় তিনি বারবার অনুরোধ করছিলেন যেন তাঁর নানাকে কিছু না জানানো হয়। উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ